কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পারিবারিক কলহ ও পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ভেড়ামারা থানাধীন বাহাদুরপুর বাজারের সার ও কীটনাশক দোকানের সামনের রাস্তায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ীর নাম মো. লালন ইসলাম (৩৭)। তিনি বর্তমানে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. মোয়াল্লেম হোসেন বাদী হয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫ বছর আগে মো. লালন ইসলামের সাথে মোছা. আরশ বানু (২৩)-এর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আরশ বানু সংসারে খামখেয়ালি আচরণ করতে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইলে বিভিন্ন পুরুষের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই বিষয়ে স্বামী ও পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। ঘটনার দিন গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিয়ে বাহাদুরপুর বাজার এলাকায় আরশ বানুর উস্কানি ও নির্দেশে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে লালন ইসলামের পথরোধ করে।১নং বিবাদীর সরাসরি নির্দেশে সন্ত্রাসীরা লালন ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে এবং লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। মারধরের একপর্যায়ে হামলাকারীরা লালন ইসলামের পকেটে থাকা ব্যবসা সংক্রান্ত নগদ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। লালন ইসলামের ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এবং মো. কালাম হোসেন ও মো: কমল বিশ্বাস নামের দুই প্রত্যক্ষদর্শী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বাদীর পরিবার জানায়, ঘটনার পর থেকেই বিবাদী পক্ষ মামলা না করার জন্য এবং তথ্য গোপন রাখার জন্য অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এই ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।